এই মাত্র

শুটিং সেটে শিশু রাজ্যকে মানসিক চাপ, মায়ের উকিল নোটিশ

শিশু অধিকারের পরিপন্থি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নির্মাতা আদনান আল রাজীবকে (পরিচালক রান আউট ফিল্মস লিমিটেড) উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন রাজ্য নামে এক শিশুশিল্পীর মা।

রাজ্যের মা পিয়া এই বিষয়ে  বলেন, ‘রান আউট নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা কয়েক সপ্তাহ আগে আমাকে ফোন করে। আমার ছেলে রাজ্যকে বসুন্ধরা টিস্যুর একটি বিজ্ঞাপনে মেইন আর্টিস্ট হিসেবে কাস্ট করতে চায়। প্রথমে ইচ্ছে ছিল না। পরে তারা বেশী আগ্রহ প্রকাশ করলে রাজি হই। বাচ্চাকে তাদের অফিসে নিয়ে যেতে বলে। আমি নিয়ে যাই। ওরা ফটোশুট করে। পরে নির্বাচনও করে। এরপর ২৮ অক্টোবর সকালে শুটিং এ ডাকে। শুটিং শুরু হবে, শুটিং সেটে অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর শামী রাজ্যের নাম ধরে ডাকে। শামী জোরে কথা বললে রাজ্য কেঁদে ফেলে। এসময় শামী বলে, ওকে দিয়ে হবে না, ওকে সেট থেকে বের করে দাও।’

মা নায়লা পারভীন পিয়ার অভিযোগ, তার চার বছরের ছেলে রাজ্যকে একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে নির্বাচিত করে শুটিং সেটে তার উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে শুটিং থেকে বাদ দেওয়া হয়। রাজ্য ও তার মায়ের পক্ষে ৫ নভেম্বর উকিল নোটিশটি পাঠিয়েছেন অ্যাডভোকেট এলিনা খান।আইনজীবী এলিনা খান বলেন, ‘উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি কারণ বাচ্চারা এমনিতেই খুব সেনসিটিভ হয়, রাজ্যের সঙ্গে যা ঘটেছে তা কাম্য নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাচ্চাদের মানসিক অবস্থা অনেক নাজুক। ওর সঙ্গে যা হয়েছে সেটা চাইল্ড রাইটসের ভায়োলেশন, হিউম্যান রাইটসেরও ভায়োলেশন। সেই আলোকে আমরা এটা করেছি। বড় মানুষরা প্রতিবাদ করতে পারে, ছোটরা প্রতিবাদ করতে পারে না। এটা সবার মাথায় রাখা উচিৎ।’

রাজ্যের মা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম- ওরা ওকে বোঝাবে। একটা ছোটো বাচ্চা কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছে। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। এক মিনিট সময় না দিয়ে ওকে বের করে দেওয়া হয়।’তিনি বলেন, ‘শুটিং সেটে আমি কোনো ঝামেলা করিনি। শেষে আমাদের সরি বলবে ভেবেছিলাম। ওরা সরি বলেনি। দুদিন পরে আমাকে ফোন করে বলা হয় ওদের কাজ করে মেজাজ খারাপ ছিল তাই এমন হয়েছে।’পিয়া আরও বলেন, ‘শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে মেজাজ খারাপ করা যাবে না। আমি শুনেছি রান আউট এর আগেও অনেকের সঙ্গে এমন খারাপ ব্যাবহার করেছে। তাই লিগ্যালি আমি নোটিশ পাঠিয়েছি। ওদের বোঝা উচিত- একটা শিশুর সঙ্গে কী ব্যবহার করতে হয়!’

উকিল নোটিশে বলা হয়, শিশু রাজ্যকে শুটিংয়ে নিয়ে তার সঙ্গে জোরে কথা বলে। তার সামনে অন্য শিশুকে কাজ করিয়ে রাজ্যকে মানসিক নির্যাতন, কষ্ট দেয়া ও ক্ষতি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিষয়টি শিশু অধিকারের পরিপন্থি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পরিচালক হিসেবে ওই বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে মতামত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে রাজীবকে। না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন আবেদনকারী।

 

এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত নন। তার কাছে কোনো উকিল নোটিশও পৌঁছায়নি।

Check Also

২০০ মিলিয়ন ইউরোতে রিয়ালে হ্যারি কেন!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এখন থেকেই তাই পর্তুগীজ যুবরাজের উত্তরসূরীর খোঁজ শুরু করে …

Powered by keepvid themefull earn money