এই মাত্র

কোহলির সেঞ্চুরির কাছে হারল বাংলাদেশ

Indiaবাংলাদেশ ভারতকে ২৮০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েও হেরে গেল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চার উইকেট হারিয়ে ৪৯ ওভার মোকাবেলা করে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। মুশফিকদের ৫০ ওভারে সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৭৯। ২৮০ রানের টার্গেট তাড়া করে ব্যাট করতে নামে কোহলির দল। ইনিংসের শুরুতে মাশরাফি-রুবেলের বলে বেশি রান সংগ্রহ করতে পারেনি। এমনকি ৭.৫ ওভারে রুবেলের বলে ফ্রি হিটে রোহিত শর্মা ৮ রানে থাকা অবস্থায় বোল্ড হয়েও বেঁচে যান। তবে দুই পেসার রানের লাগাম টেনে ধরে রাখেন। যে কারণে ১০ ওভারে ভারতের স্কোর বোর্ডে বিনা উইকেটে ৩৮ রানের বেশি জমা হয়নি। দলের ৫০ রান জমা করতে ১১.১ ওভার অপেক্ষা করতে হয়। তবে ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই রাজ্জাকের স্পিনে এলবিডব্লিউ হলেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান ২৮ রানে।

এরপর ভেল্কি দেখালেন জিয়াউর রহমান। ২১ রান করা ওপেনার রোহিত শর্মাকে বোল্ড করলেন জিয়া। বেশ চাপেই পড়ে যায় ভারতীয় শিবির। ক্রিজে তখন ২৮ রান করা অধিনায়ক বিরাট কোহলি আর আজিঙ্কা রাহানে ৯ রানে। তৃতীয় জুটিতে এই দুই জন দলে রানের গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকার কাজটাও করলেন ভালোভাবেই। কোহলি দলের ১২২ রানে নিজের ৩১তম ওয়ানডে ফিফটিটা জমা করলেন ৬টি চার আর ১টি ছক্কা দিয়ে। মুশফিক-এনামুলের তৃতীয় জুটি যেমন দলের প্রয়োজনে ১৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিল তেমনি পার্টনারশিপ গড়লেন কোহলি-আজিঙ্কা রাহানে। দুই পেসার আর ছয় স্পিনার ব্যবহার করলেন মুশফিক তৃতীয় জুটিতে ফাঁটল ধরাতে। এমনকি কোহলির ১৯তম সেঞ্চুরিটাও আটকানো সম্ভব হয়নি। ৩৭ ওভারে দলের ২০১ রানে কোহলি ৯৯ রানে আর আজিঙ্কা ৪৪ রানে। ৯৫ বলে ১২টি চার-১টি ছক্কা দিয়ে কোহলির সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। ২১৩ রানের পার্টনারশিপপে এই দুই ব্যাটসম্যান বোলারদের কোনো সুযোগই দেয়নি। শেষ অবদি ১৩৬ রানে কোহলিকে ফেরত পাঠালেন রুবেল। আর ৭৩ রান করা আজিঙ্কা রাহানেকে ক্যাচ বানালেন সোহাগ। ৪ উইকেটে ২৭২ রান ৪৭.৩ ওভার। ৪৮.৫ ওভারে স্কোর লেভেল হয়ে যায় ২৭৯। ৭ বলে ১ রানের প্রয়োজন। ৪৯তম ওভারের শেষ বলটি কভার অঞ্চলে ঠেলে দিয়েই দিনেশ কার্তিক ১ রান নিলে ৬ উইকেটে জয়ী হয় ভারত।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই পর পর উইকেট হারিয়ে মুশফিকরা খাদের কিনারায় দাঁড়ানো ছিল। স্কোর ছিল ২ উইকেটে মাত্র ৪৯! এনামূলের ৭৪ আর মুশফিকের সেঞ্চুরি (১১৭)। ৩য় জুটিতে ১৩৩ রান আর শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের চেষ্টায় লড়াই করার পুঁজি পেয়ে যায় বাংলাদেশ (২৭৯/৭)। ১০ ওভারে সংগ্রহ মাত্র ৩৫! তাতে আবার ১ উইকেটে নেই! ওপেনার শামসুর রহমান পেসার সামীর বলের সুইং বুঝতে না পারায় ব্যাটের কাণায় লেগে ক্যাচ! এরপর মুমিনুল হক সঙ্গী হলেন ওপেনার এনামুলের। ব্যক্তিগত ১২ রানে আর দলের ৩০ রানে এনামূল তুলে মারলেন। কিন্তু ফিল্ডার ক্যাচ ড্রপ করে দিলে বেঁচে যান। ১৫ রানে রান আউটের হাত থেকেও রেহাই পেলেন আনামুল। সেট হওয়া মুমিনুল ২৩ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্ট্যাম্পিং হলেন। দুই উইকেটের পতন ঘটলেও দলের রান ৫০ পূর্ণ হয়নি।

তৃতীয় জুটিতে এনামুলের সঙ্গী অধিনায়ক মুশফিক। দুই টপ অর্ডার ধীরে ধীরে সেট হয়ে যান। ২৩.৩ ওভারে দলের শত রান তখনও পার হয়নি। আশ্বিনের বলে বিশাল ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করলেন আনামূল ৩ ছক্কা আর ৩ চার মেরে। সঙ্গে দলের শত রানও পূর্ণ হয়ে যায়। মুশফিক তখন ১৯ রানে ব্যাট করছেন। এই জুটির কল্যাণে বাংলাদেশ আর উইকেট না হারিয়ে দেড় শত রাত স্পর্শ করে। আর মুশফিকের পূর্ণ হয়ে যায় ১৪তম ওয়ানডে ফিফটি। চার মেরে কোহলির বলে ফিফটি পান মুশফিক। আনামূল তখন ৬১ রানে। কিস্তু ৭৭ রানে শেষ হয় এনামুলের ইনিংস। ৫টি চার আর ৩টি ছক্কা দিয়ে সাঁজানো ইনিংস শেষ হয় বরুন অরুনের বলে বোল্ড হয়ে। ৩য় জুটির ১৩৩ রানই মূলত স্কোরটা সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যায়।

৩৮.৪ ওভারে দলীয় রান ১৯৬। মুশফিক বরুন অরুনের বলে বিশাল ছক্কা দিয়ে দলের দুই শত রান পূর্ণ করলেন। ভারতীয় বোলারা বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠে। পেসার বরুন অরুন পরের বলেই (৩৮.৫ ওভারে) মুশফিকের বুক টার্গেট করে বল মারেন। মুহূর্তেই বল মুশফিকের বুকে আঘাত করে। মুশফিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। অবশ্য আম্পায়ার নো বল ঘোষণা দিলেন। তারপরও ভারতীয়রা থামাতে পারেনি মুশফিকের ব্যাটে রানের গতি। ভারতীয় বিশ্বমানের বোলিংয়ের বিপক্ষে ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৮ রান কম কথা নয়। মুশফিক ৮৩ আর নাইম ৩ রানে ব্যাট করছেন। কিন্তু এর আগে নাইম ১৪ রানে ক্যাচ আউট হওয়াতে স্কোর ৪ উইকেটে ২৩১। ম্যাচের ৬ ওভার বাকি। তবে অশ্বিনের বলে চার মেনে দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা মুশফিকের মুখে আবারও হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে। নাসির উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন দলের ২৪১ আর নিজের ১ রানে।

৪৭তম ওভারে পূর্ণ হল দলীয় ২৫০ রানের টার্গেট। মুশফিক তখনও ক্রিজে। সঙ্গে জিয়াউর রহমান। দলীয় ২৭০ রানে আর নিজের ১৯ রানে জিয়া ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। ৪৯.৩ ওভারে মুশফিক ১১৩ বলে ৭ চার আর ২ ছয়ে ১১৭ রানে বরুন অরুনের বলে বিশাল ক্যাচ তুলে ফিল্ডার সামির হাতে বন্দি হলেন। শেষ তিন বল মোকাবেলা করে তিন রানের বেশি যোগ হয়নি সোহাগ আর মাশরাফির ব্যাট থেকে।

ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

Check Also

মেসি-সাম্পাওলিকে নিয়ে পেলের তিরস্কার

আর্জেন্টিনা তারকা লিওনেল মেসি দারুণ খেলোয়ার এবং নতুন কোচ জর্জ সাম্পাওলিও অনেক ভালো ও বড় …

Powered by keepvid themefull earn money